বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ট্রানজিট চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একতরফা সুবিধার অভিযোগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তিটি বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে কম লাভবান হয়েছে, যেখানে ভারত কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করেছে।
২০১১ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ট্রানজিট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। এর আওতায় ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে সহজে পণ্য পরিবহনের সুযোগ পেয়েছে।
ট্রানজিট ব্যবস্থায় বাংলাদেশের ভূমিকা ছিল মূলত সেবাপ্রদানকারী। ট্রানজিট ফি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অন্যান্য সেবার বিপরীতে বাংলাদেশ যে আয় করেছে, তা প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ তুলনায় খুবই কম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. রাকিব হাসান বলেন, "বাংলাদেশের অবকাঠামো ব্যবস্থায় ট্রানজিট চুক্তির কারণে চাপ বেড়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে আমরা যে অর্থনৈতিক বা কৌশলগত সুবিধা পেয়েছি, তা যথেষ্ট নয়।"
অন্যদিকে, ভারতীয় পণ্যবাহী যানবাহনের কারণে বাংলাদেশের সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া, পরিবেশগত ক্ষতি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশ সরকার বলছে, ট্রানজিট চুক্তির ফলে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে। বাংলাদেশ পণ্য পরিবহনের ফি থেকে রাজস্ব আদায় করছে এবং ভবিষ্যতে এর সুফল আরও দৃশ্যমান হবে।
ভারত বলছে, চুক্তিটি দুই দেশের জন্যই লাভজনক। তারা মনে করে, ট্রানজিট ব্যবস্থার উন্নয়ন আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে।
দেশের সাধারণ জনগণ এবং বিভিন্ন মহল থেকে ট্রানজিট চুক্তি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ এটি আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক মনে করছেন, আবার অনেকেই বলছেন, এটি একতরফাভাবে ভারতের স্বার্থে কাজ করছে।
বাংলাদেশ-ভারত ট্রানজিট চুক্তি নিয়ে বিতর্ক এখনো অব্যাহত। চুক্তির কার্যকারিতা এবং এর মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে প্রকৃত ভারসাম্যপূর্ণ সহযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য নীতি-নির্ধারকদের আরও গভীর পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
0 মন্তব্যসমূহ